চট্টগ্রামের বিনোদন স্পটে মানুষের ঢল

ঈদের ছুটিতে নগরীর বিনোদন স্পটগুলোতে নানা বয়সি মানুষের ঢল নামে। ঈদের আনন্দ উদ্যাপনে শিশুদের সঙ্গে বড়োরাও ছুটে গেছেন সেই সব বিনোদন স্পটে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, পার্কি সমুদ্রসৈকত, ফয়’স লেক,  অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ফয়’স লেক চিড়িয়াখানা, বাটালী হিল, কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকা, নির্মাণাধীন আউটার রিং রোডসহ সমুদ্রবেষ্টিত এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিনোদনপিয়াসি মানুষ দিনভর নানাভাবে ঈদের ছুটি উপভোগে বিনোদনে মেতে ওঠে।

ফয়’স লেক সি-ওয়ার্ল্ডে ছিল তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিপুল সমাবেশ। সেখানে তারা সমুদ্রের কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে ব্যান্ড মিউজিকের তালে তালে নেচেগেয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।  এই উত্সব আনন্দ আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে পার্কের ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা জানান। তারা জানান, এখানে নির্মল বিনোদনের প্রত্যাশায় ছুটে আসা নানা বয়সি মানুষের  নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, পার্কি সৈকত, নগরী থেকে একটু দূরে ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব ইত্যাদি এলাকায় বহু মানুষ সপরিবারে সময় কাটাতে ছুটে গেছে। তবে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও পার্কি সৈকতে সাগরে গোসল করার বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম রসুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এখানকার সমুদ্রসৈকতে নানা বয়সি মানুষ নামছে গোসল করতে। কিন্তু জোয়ার-ভাটার সময় সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এখানে জীবনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া তাত্ক্ষণিক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। সৈকতে আসা লোকজন সমুদ্রে গোসল তো করছেই, পাশাপাশি তারা এখানে উত্তাল ঢেউয়ের ওপর নৌকা, স্পিডবোট ও লাইফবয়া নিয়ে সাঁতার কাটছে। ভাটার সময় কোনো ধরনের সতর্কতা না থাকায় গোসলরত মানুষের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সঙ্গে সমুদ্রসৈকত এলাকায় উন্নতমানের খাবারের দোকান নেই বলেও তার অভিযোগ। এছাড়া বৃষ্টিতে, দুর্যোগের সময় তাত্ক্ষণিকভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের আশ্রয় নেওয়ার জন্যও কোনো ধরনের শেলটার নেই।

অপর দিকে, নেভাল এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা স্কুল শিক্ষার্থী আফছানা খানম বলেন, এখানে জনগণের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আজো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় একশ্রেণির তরুণ-তরুণী ও সমাজবিরোধী মানুষের উত্পাত লক্ষ করা যায়। তাছাড়া মাদকসেবীদের একটি বড়ো অংশ এই এলাকাকে ঘিরে সন্ধ্যার পর সমবেত হয় বলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও এখানে বিঘ্নিত হয়।