তৃতীয় স্থান নির্ধারণী

ইংল্যান্ড এই ম্যাচটি খেলতে চায় না, আমরাও চাই না: ফ্রান্স কোচ

মায়ামিতে শনিবার রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে ফরাসিদের।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন যে, এই ম্যাচটি খেলার কোনো মানসিকতাই তাদের নেই, তবুও জাতীয় জার্সির প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তারা ব্রোঞ্জ পদক জিততে চান। 

ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, ‘এই ম্যাচটি নিয়ে আমার একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। এটি কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, এটি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আমি, খেলোয়াড়রা এবং পুরো স্টাফরা মিলে এই শেষ লক্ষ্যটিতে পৌঁছাতে বাধ্য। অবশ্যই এটি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইংল্যান্ডও এই ম্যাচটি খেলতে চায় না, আর আমরাও চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের এখন এখানেই লড়তে হবে।’ 

দেশম আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘তাদের মূল লক্ষ্য এখন তৃতীয় স্থান অর্জন করা এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর মানেই হলো সেই দায়িত্ব পালন করা।’

একই সঙ্গে ম্যাচটি ফ্রান্সের ডাগআউটে তার শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে যেন আমরা তৃতীয় হতে পারি এবং এই শেষ লক্ষ্যটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি। এই জার্সিটি পরলে আমাদের এই দায়িত্বটুকু পালন করতেই হবে। আমার মাথায় এটি স্পষ্ট যে, এটাই (কোচ হিসেবে) আমার শেষ ম্যাচ। আমি চাই না কেউ কাঁদুক। শেষটা খুব কাছে, তবে জীবন তো আর থেমে থাকে না।’ 

এদিকে সেমিফাইনালে হারের পর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা কেমন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। তবে একই সঙ্গে বিদায়ী কোচ দেশমকে একটি জয় দিয়ে বিদায় জানানোর তাড়নাও কাজ করছে তাদের মধ্যে।

কোনাতে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কেউই এই তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে নামতে চাইনি, কিন্তু আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা আমাদের কোচকে প্রতিদান দিতে চাই। ফ্রান্স দলের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। সেজন্য আমাদের তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং এই ম্যাচটি জেতার জন্য আমাদের যথাসাধ্য সবকিছু করতে হবে... যেন অন্তত এই ব্রোঞ্জ পদকটি আমরা নিজেদের করে নিতে পারি।’