ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়াতে বড় ধরনের যুদ্ধপ্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই সামরিক পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউসে নতুন কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় যে অভিযান চলছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত আকারে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। এছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইনের ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, সেখানে ইরান নতুন করে সামরিক অবকাঠামো তৈরি করছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে তিনি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করা।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হামলার মাত্রা বাড়ানোর নির্দেশ আসতে পারে। ইতোমধ্যে টানা পাঁচ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসের আশপাশে অন্তত সাতটি সেতুতে হামলা হয়েছে। এই এলাকাকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে। দেশটির দাবি, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩০টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের রেমন বিমানঘাঁটিতেও প্রায় সমান সংখ্যক বিমান রয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েক ডজন বিমান আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়নকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছে, কারণ অন্যান্য ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে এতসংখ্যক মার্কিন বিমান বেন গুরিয়নে অবস্থান করায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিমানগুলো কোথায় রাখা হবে সেই ব্যবস্থা ইসরায়েল সরকারকেই করতে হবে।