ক্ষমতায় আসার আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছিল, দলটির বর্তমান ভূমিকায় তার উল্টো চিত্র দেখছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। তাদের দাবি-সংখ্যালঘুদের বিষয়ে বিএনপি এখন অনেকটাই উদাসীন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে গত রোববার রাতে নিজের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর সিআইডির পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে নির্মল রোজারিও এ কথা বলেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সমাবেশ থেকে হরিদাস চন্দ্রের মুক্তি দাবি করা হয়।
সমাবেশে ঐক্য পরিষদের নেতারা রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করার দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নির্মল রোজারিও বলেন, ‘মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণ করার অধিকার রয়েছে। গাইবান্ধায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নির্মল রোজারিও। অসাম্প্রদায়িক দেশ চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ ছিল। যারা এখন সরকার গঠন করেছে, তাদের সঙ্গেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ছিল। তখন তারা বলেছিল সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ভালো থাকবে।’
নির্মল রোজারিও আরও বলেন, ‘কিন্তু আজকে আমরা দেখছি অনেকটাই তারা উদাসীন হয়ে গেছে। সরকার যদি থাকে একটা দেশে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?’
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘মন্দির নির্মাণের জন্য হরিদাসকে দায়ী করা হয়েছে। হরিদাস মন্দিরে ৮০ ফুট মূর্তি নির্মাণ করবে নাকি ১০০ ফুট করবে বা ১৫০ ফুট করবে-সেটা তাঁর ব্যাপার। এটার কিন্তু কোনো লিমিট নাই যে এর থেকে বেশি করা যাবে না। বিএনপি সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লক্ষ করা যাচ্ছে না—বলেন মনীন্দ্র কুমার।’
মিছিল–পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা।