রেকর্ড পাস আর নিখুঁত নিশানায় স্পেনের মাঝমাঠের ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক’ রদ্রি

ফুটবল মাঠে একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাজ অনেক সময়ই সাধারণ দর্শকের চোখে পড়ে না। তবে আড়ালে থেকেই পুরো দলের আক্রমণের রূপরেখা ও রক্ষণভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। চলতি বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা স্পেন দলের হয়ে ঠিক সেই কাজটিই নিভৃতে করে যাচ্ছেন রদ্রি। মাঝমাঠের এই তারকা ইতোমধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ ৬৫৫টি পাস দেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফেরা এই মিডফিল্ডারকেই দলের সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি বলে মানছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত রদ্রির দেওয়া ৬৫৫টি পাসের মধ্যে ৯৪ শতাংশই ছিল সম্পূর্ণ নির্ভুল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে আর কোনো খেলোয়াড় এত বেশি পাস দিতে পারেননি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার এই নিখুঁত পাসিং ক্ষমতা বড় ভূমিকা রেখেছে। ওই ম্যাচে স্পেনের দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে পেদ্রো পোরো ও দানি ওলমোর নাম সামনে এলেও সেই আক্রমণের মূল উৎস ছিলেন রদ্রিই।

অথচ এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে রদ্রির ফর্ম নিয়ে ফুটবল মহলে সংশয় তৈরি হয়েছিল। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবল জয়, স্পেনের জার্সিতে ২০২৪ সালের ইউরো জয় এবং টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার পাশাপাশি ব্যালন ডি’অর জয়ের মতো অসাধারণ সময় পার করেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরই লিগামেন্টের গুরুতর চোটে পড়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। চোট কাটিয়ে ফেরার পর তার আগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি তা ভুল প্রমাণ করেছেন।

রদ্রিকে নিয়ে ওঠা সব সংশয়ের কড়া জবাব দিয়েছেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে ঘরানার ফুটবল খেলি, তার জন্য রদ্রি একজন আদর্শ খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই অপমানজনক। সে যেভাবে দলের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেয়, তার কোনো তুলনা নেই।’

দলের কৌশলগত দিক থেকেও রদ্রি স্পেনের ভরকেন্দ্র। স্প্যানিশদের আক্রমণের সূচনা হয় রদ্রির পা থেকেই। ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোরা যখন আক্রমণে ওঠেন, তখন তাদের পেছনের রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব থাকে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাঁধে। বল হারানোর দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার যে উচ্চমাত্রার প্রেসিং নীতি স্পেন অনুসরণ করে, তার কেন্দ্রেও রয়েছেন রদ্রি।

কোচ দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে রদ্রির এই রসায়ন ও বোঝাপড়া দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেকের সময় থেকেই দে লা ফুয়েন্তের অধীনে খেলছেন তিনি। সেবার তারা ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ শিরোপাও জিতেছিলেন। মিকেল মেরিনো, উনাই সিমন, রুইজ, ওলমো ও মিকেল ওইয়ারসাবালদের নিয়ে গড়া স্পেনের বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলাররা একই কোচের দর্শনে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিনের সেই বোঝাপড়া এবং রদ্রির মাঠের নেতৃত্বের ওপর ভর করেই এখন আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে স্পেন।