নওগাঁর পত্নীতলায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইছাহাক হোসেনের (৭০) খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে এক কাউন্সিলরসহ ৩ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন— নজিপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মামুদপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ ওরফে লিটু ফকির, তার বড় ভাই লোকমান হোসেন বেলাল ও বাড়ির কেয়ারটেকার আনিকুল। আনিকুল গত ২০ বছর ধরে ইছাহাক হোসেনের বাড়িতে আছেন। পুলিশ এখনো ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করতে পারেনি।
এ দিকে মরহুম ইছাহাক হোসেনের জানাজা বুধবার বিকাল ৪টায় নজিপুর পাবলিক মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। ইছাহাক হোসেন খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে পৌর সদরের মামুদপুর গ্রামে তার বাড়ির শয়নকক্ষে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ইছাহাককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ইছাহাকের মাইক্রোবাস চালক দুলাল গাড়ি রেখে ভিতরে প্রবেশ করলে খুনিরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে দুলালের চিত্কারে ইছাহাকের মেয়ে সিফাতে রাব্বানী ও আশপাশের লোকজন এসে আহতদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ইছাহাক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, বালু মহাল দখল, টেন্ডারের টাকা ভাগবাটোয়ারা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ইছাহাক হোসেনের মেয়ে সিফাতে রাব্বানী মুন জানান, কয়েক বছর আগে তার বাবাকে স্থানীয় একটি গ্রুপ হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছিল। থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও থানা কোনো মামলা নেয়নি। তিনি জানান, ওই ঘটনার সঠিক বিচার হলে আজ হয়তো বাবাকে লাশ হতে হতো না। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফফার জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এমনকি কোনো ভাগবাটোয়ারা হয় না। পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, ইছাহাক হোসেনের খুনের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৌর কাউন্সিলরসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। খুনের রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি।