দিল্লির বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ বানাচ্ছে বিরোধীরা: রাজনাথ সিং

দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

বুধবার (২২ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষার্থী ও তরুণদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

রাজনাথ সিং দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার্থী ও তরুণদের কল্যাণ এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের প্রতিটি উদ্বেগের কথা শোনা এবং সেগুলোর যথাযথ সমাধান করা।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সচেতন, পরিণত ও বিচক্ষণ তরুণ সমাজ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টা বুঝতে সক্ষম এবং তারা উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দেশ গঠনের পথই বেছে নেবে।

এদিন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কারও প্রতি, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রতি, কোনো ধরনের অবিচার হতে দেব না। বিরোধী দলের কিছু নেতা যে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তা জনগণ, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের বিভ্রান্ত করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সরকার তরুণদের অনুভূতি ও উদ্বেগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সংবেদনশীল। বর্তমানে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলছে এবং সরকার সব বিষয়েই অর্থবহ আলোচনায় প্রস্তুত। তবে বিরোধীরা সংসদে বিষয়গুলো উত্থাপনের পরিবর্তে রাজপথে সমাধান খুঁজতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজনাথ।

রাজনাথ সিংয়ের ভাষায়, গণতন্ত্রে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার যথাযথ স্থান সংসদ। বিরোধী দল চাইলে সেখানেই তাদের মতামত তুলে ধরতে পারে। তারা যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তাহলে বর্ষাকালীন অধিবেশন ব্যাহত না করে সংসদেই সব বিষয় উত্থাপন করা উচিত, যাতে দেশের দৃষ্টি সেদিকে আকৃষ্ট হয়।

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে আন্দোলন চলছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকাদের’ নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিল্লিতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের টানা ২৫ দিনের অনশন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী অভিযান ঠেকাতে দেশটির রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।