সারাদেশ থেকে বাস-ট্রেনে করে নতুন বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে, নিরাপত্তা জোরদার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে কথিত পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে চলমান আন্দোলনে দিনভর বাড়তে থাকে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এমন নিঃশর্ত আশ্বাস পেলে অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

বুধবার (২২ জুলাই) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির দুই দিন পরও যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও ট্রেনে রাতভর ভ্রমণ করে নতুন নতুন বিক্ষোভকারী আন্দোলনস্থলে যোগ দেন। অনেককে ব্যাকপ্যাক ও ব্যানার নিয়ে সরাসরি বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

আন্দোলনকারীদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকেরা তাদের বসার ব্যবস্থা করে দেন এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির প্যাকেট বিতরণ করেন। নতুন নতুন অংশগ্রহণকারীদের আগমনে যন্তর মন্তরে স্লোগান ও জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে।

কথিত নিট প্রশ্নফাঁস এবং যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের ঘটনা বুধবার ভারতের পার্লামেন্টের লোকসভা ও রাজ্যসভা, উভয় কক্ষেই তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। সরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিরোধী দল সংসদের কার্যক্রমে বাধা দিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে।

এদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি জে.পি. নাড্ডা অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, কেন্দ্রীয় সরকার এমন স্পষ্ট ও নিঃশর্ত নিশ্চয়তা দিলে তিনি তার অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহার করবেন।

উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে পুলিশের অভিযানের সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।