গণশুনানি চলাকালে টেকনাফে ইউপি কার্যালয়ে হামলা, আহত ৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তিকরণ ও সীমানা নির্ধারণসহ অনুষ্ঠিতব্য গণশুনানিকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তিকরণসহ সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে গণশুনানি শুরুর পর একদল বিক্ষুব্ধ লোক ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্লোগান দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা চালায় এতে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় হামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্তত ৪-৫ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও কক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তিকরণ-সংক্রান্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় একদল লোক আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ অন্তত ৪-৫ জন আহত হন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ার-টেবিল, দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। যারা হামলা করেছে, তারা আগে থেকেই ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল।

টেকনাফ উপজেলা সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহের বলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের বিভক্তিকরণ ও সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত গণশুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই সভাকক্ষের বাইরে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা হৈচৈ শুরু করে। তারা ‘হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তি চাই না’ বলে স্লোগান দিতে থাকে এবং বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করে।

একপর্যায়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জেনেছি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আমরা নিরাপদে সেখান থেকে চলে আসি।