লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ, চমেকে ভর্তি দগ্ধ পাঁচজনের কেউই আর বেঁচে নেই

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবস্থিত একটি লবণ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক দগ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম মাহমুদুল হক (৪০)। তিনি পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের গোরনখাইন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ নিয়ে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়াল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১৬ জুলাই সকাল ১০টার দিকে। ওই দিন বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত 'কনফিডেন্স সল্ট কোম্পানি'র কারখানায় আকস্মিক আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হন।

তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ ৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং অন্য ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দুঃখজনকভাবে, চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দগ্ধ ৫ জন শ্রমিকের কেউই বেঁচে ফিরতে পারলেন না; পর্যায়ক্রমে তাদের সবারই মৃত্যু হলো।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দুর্ঘটনার দিন রাতেই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে থাকা মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫) ও দিদারুল আলম (৩২) মারা যান। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই মারা যান রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল দাশ (৫৩) এবং বোয়ালখালীর স্থানীয় বাসিন্দা নুর নবী (২৫)। আর দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে জীবনের সঙ্গে লড়াই করার পর আজ মারা গেলেন মাহমুদুল হক।

চিকিৎসার বিষয়ে চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদ উল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথম থেকেই তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।