মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইরানের পাঁচজন বিচারকের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রবাহ দমন ও সরকারি নিপীড়নে মদদ দেওয়ার অভিযোগে একটি শীর্ষস্থানীয় সাইবার গ্রুপের প্রধানকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইইউর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরানের বিশেষ সাইবার গ্রুপ 'আশিয়ানে'-র প্রতিষ্ঠাতা নিমা সালেহিকে এই নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, নিমা সালেহির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ইরানের সাইবার পুলিশ এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে। তবে এই দফায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া পাঁচজন বিচারকের নাম প্রকাশ করেনি ইইউ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক কর্মী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর তীব্র দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে এই বিচারকদের বিরুদ্ধে নতুন করে এ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান সরকার যখন দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন কঠোর করছে, তখন এর সাথে জড়িত দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে ইইউ তার কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া তথ্যমতে, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বমোট ২৬৯ জন ব্যক্তি এবং ৫৩টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নানা ধরণের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংস্থাটি।