দিল্লিতে বিক্ষোভকারী ককরোচদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহারে রাজি সরকার

ভারতের দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র সরকারের দুই মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। সিজেপির পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। 

এর আগে, দেশটির জাতীয় মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ‘নিটের’ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশব্যাপী ছাত্র-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার এই ঘোষণার পর যন্তর মন্তরসহ দেশজুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শিক্ষার্থীরা। 

তবে উদযাপনের মাঝেই যন্তর মন্তরে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও পুলিশি অ্যাকশনের ঘটনা ঘটেছে। 

সরকারের আগের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে অবশেষে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করায় আন্দোলনকারীরা একে নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, আমরা এটি করে দেখিয়েছি। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ প্রমাণ করেছে যে, ভয় না পেয়ে আন্দোলন করলে ফল পাওয়া যায়। তবে তাদের আন্দোলন এখানেই শেষ নয়।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের কথিত নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

দিপকে বলেন, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি গণতন্ত্র। একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু আমাদের আরও দুটি দাবি রয়েছে। সেগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না।

কেন্দ্র সরকার ও সিজেপি নেতাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পুলিশি দমনপীড়নের (ক্র্যাকডাউন) অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তৃতীয় দফার আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।

বিশিষ্ট জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে গণতন্ত্রের বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সিজেপি এবং জেন জি বিক্ষোভকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে আন্দোলনটিকে এখন সংস্কার ও জবাবদিহিতার দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।