গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলচেষ্টার অভিযোগ, সাভারে উত্তেজনা

সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ট্রাস্টিবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের আদেশের দাবি তুলে কেন্দ্রটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা। এ সময় বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্যদের বাধার মুখে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকায় অবস্থিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ট্রাস্টিবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের আদেশের কথা উল্লেখ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা। তবে বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্যরা এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শিরিন পারভিন হকের নেতৃত্বে নতুন ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে তিনি ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই ট্রাস্টিবোর্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডা. নাজিম উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের চার সদস্যের মধ্যে বর্তমানে কেবল ডা. নাজিম উদ্দিন জীবিত রয়েছেন। তার দাবি, একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি হিসেবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার আইনগত অধিকার তারই রয়েছে।

বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য মঞ্জুর কাদির বলেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী জীবিত থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ডা. নাজিম উদ্দিনকে ট্রাস্টিবোর্ড থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ট্রাস্টিবোর্ডের বৈধতা নিয়ে উভয় পক্ষের মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর থেকেই ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার অনুসারীরা কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কয়েক দফা একই ধরনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে তার দাবি।

অন্যদিকে ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ড আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাকে বাদ দিয়ে ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। তার দাবি, গত ৫ জুলাই আদালত তার পক্ষে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়ে বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালতের ওই আদেশ অনুযায়ী তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার অধিকারী হলেও সেখানে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই কে বৈধ ট্রাস্টি তা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।