ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ভারতজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে আটক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি মোদি সরকার দিয়েছিল, সেটি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে সোমবার (২৭ জুলাই) অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দিলে মঙ্গলবার থেকেই কঠোর কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছে তরুণদের এই সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।
সোমবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল দাবিগুলোর মধ্যে একটি পূরণ হওয়ায়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৭ দিনের টানা অবস্থান কর্মসূচি সম্মানের সঙ্গে তুলে নিয়েছিল অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন।
তবে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লিতে লজিস্টিক সহযোগিতাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি ও হয়রানির খবরও আসছে একের পর এক।
তিনি বলেন, আমরা চাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক, শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া হোক এবং চুক্তি অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্র ও বিজেপির মিত্র রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো এফআইআর না করে। না হলে আমরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হব।
একইসঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মামলা বাতিলের লিখিত চুক্তি আগামীকালের মধ্যে হাতে পাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
কনস্টিটিউশন ক্লাবে মন্ত্রীদের সঙ্গে শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছিল, নিট পরীক্ষার জালিয়াতিতে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সব এফআইআর তুলে নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রাজি হয়েছে।
সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করে সংগঠনটি বলেছে, চার সপ্তাহ পর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর ভারতজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই সিজেপি এসব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত দিয়ে আসছিল।