সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘গাড়ি অফারের’ পুরোনো ভিডিও ফের ভাইরাল

রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো ভিডিও। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এক শিক্ষার্থীকে ‘গাড়ি উপহার’ দেওয়ার প্রস্তাবসংবলিত ওই ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটি ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অধ্যক্ষের স্ত্রী আফরোজা রহমান লতা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ভিডিওতে থাকা সাবেক শিক্ষার্থী তুরান আহমেদ সগির দাবি করেছেন, আন্দোলন থামাতে তাকে গাড়ি, নগদ অর্থ এবং পরিচালনা পর্ষদে পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও তার স্ত্রী আফরোজা রহমান লতা

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন জেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থগিত করা হয়। এরপর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়। এরই মধ্যে পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে অধ্যক্ষের স্ত্রী আফরোজা রহমান লতাকে আন্দোলনকারী সাবেক শিক্ষার্থী সাগীর আহমেদ তুরান বলতে শোনা যায়, "তোমাকে একটা গাড়ি গিফট করতে চাই।" জবাবে সগির জানতে চান, এর আগে অন্য কাউকে এ ধরনের উপহার দেওয়া হয়েছে কি না। তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, "তুমি আমাদের কাছে বিশেষ কিছু।" ভিডিওতে দেখা যায়, সগির সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

আন্দোলনকারী সাবেক শিক্ষার্থী তুরান আহমেদ

সাগীর আহমেদ তুরান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও তার স্ত্রী আন্দোলন বন্ধ করার জন্য তাকে ঘুষ হিসেবে গাড়ি, টাকার বান্ডিল এবং গভর্নিং বডিতে পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা তা প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৫ জুলাই গভর্নিং বডির নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জোরালো হলে ক্ষুব্ধ হয়ে রূপগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার স্ত্রী আফরোজা রহমান লতা

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষের স্ত্রী আফরোজা রহমান লতা। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি কাউকে গাড়ি বা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেননি বলে দাবি করেন।

আফরোজা রহমান লতার ভাষ্য, গভর্নিং বডির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন নির্বাচন স্থগিত করলেও এর দায় অধ্যক্ষের ওপর চাপিয়ে পদত্যাগ দাবি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।