ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগে আটক হওয়া এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই শিক্ষার্থীকে তার নিজ বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
সহকারী প্রক্টর জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হল প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে নিজেদের জিম্মায় নেয়। পরবর্তীতে প্রক্টর অফিসকে বিষয়টি অবহিত করা হলে শাহবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিজ বিভাগের জিম্মায় সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, হল প্রশাসন ইতোমধ্যেই ওই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সূর্যসেন হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা নেওয়া হয়েছে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো অপকর্ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না। এই মুচলেকায় প্রদত্ত শর্ত ভঙ্গ করা হলে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করার বিষয়ে সহকারী প্রক্টর জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা ওই শিক্ষার্থীর অতীতের সাধারণ আচরণ সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন ও মতামত প্রদান করেছেন। তাঁদের এই মতামতের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখানে মানবিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক বিবেচনা করে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে একটি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সহকারী প্রক্টর। তিনি বলেন, হলে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই ও মূল ফটক ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, যাতে পরবর্তীতে হলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
হলের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, সূর্যসেন হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমকামিতায় আসক্ত বহিরাগত এক ব্যক্তিকে হলের ভেতর আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু হলে প্রবেশ করে নির্ধারিত কক্ষে যাওয়ার বদলে ওই বহিরাগত ব্যক্তি ভুলবশত অন্য একটি কক্ষের দরজায় আঘাত করেন। এতে ওই কক্ষে অবস্থানরত অন্য শিক্ষার্থীদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কথোপকথন (চ্যাট হিস্ট্রি) পরীক্ষা করে ঘটনার সত্যতা ও সন্দেহজনক তথ্য দেখতে পান। শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে হল প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও বহিরাগত ব্যক্তিকে আটক করেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন।