ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: ঢাবি কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে তারা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের উপ পরিচালক ফররুখ মাহমুদ পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই অবস্থান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের। পাশাপাশি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স অ্যান্ড রেগুলেশনসের চ্যাপ্টার ১৪-এর ধারা ৪-এর নোট অনুযায়ী, ছাত্র সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনার অধীন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিধান উপেক্ষা করে ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে। এ স্থাপনা নির্মাণের আগে সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অনুমতি নেওয়া কিংবা আলোচনা করা হয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দুপুরে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার।

ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এটিকে আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব Teaching Evaluation নীতিমালা রয়েছে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। নীতিমালাটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে এর বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে মনে করে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হতে হবে।

প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস