গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি সরে না যাওয়া পর্যন্ত হামাস অস্ত্র সমর্পণের কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী দলটি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আল জাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেন যে নিরস্ত্রিকরণের বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার ও গাজার পুনর্নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
গাজী হামাদ জোর দিয়ে বলেন যে নিরস্ত্রিকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না এবং এই প্রক্রিয়াটি কেবল একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল প্রথমে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হামাস কোনো ধরনের অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।
এই আলোচনাকে অত্যন্ত ‘কঠিন ও জটিল’ হিসেবে বর্ণনা করে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সেরা ফলাফল অর্জনের ওপর জোর দেন তিনি। সেই সঙ্গে মধ্যস্থতার জন্য মিশর, কাতার ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান হামাস নেতা।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে গাজায় হামাসসহ সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রিকরণের বিষয়ে একটি চুক্তি অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্পের তৈরি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা ও তার নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসের তত্ত্বাবধানে অর্জিত এই সমঝোতায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ দল নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
ইসরায়েলের তাণ্ডবে গাজায় ইতিমধ্যেই ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যেখানে ধ্বংস হয়েছে পুরো উপত্যকার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে আরও ১,২১৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৩,৯৭৭ জনকে আহত করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি