যমুনা অয়েলের ট্যাংকে ‘অতিরিক্ত’ ৬৩ হাজার লিটার তেল

যমুনা অয়েল কোম্পানির ট্যাংকে এবার অতিরিক্ত ৬৩ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জিএম আবু হানিফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম গতকাল শুক্রবার তিনটি ট্যাংকের তেল পরিমাপ করে উক্ত পরিমাণ অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল পান।

যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান স্থাপনা গুপ্ত খালস্থ ১, ৭ ও ৮ নম্বর ট্যাংক পরীক্ষা করে অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল পাওয়া যায়। ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান স্থাপনা গুপ্ত খাল থেকে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জগামী দুটি জাহাজে অতিরিক্ত তেল ভর্তি করে নেয়ার ঘটনায় তিন জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। উক্ত তেল চুরির ঘটনার বিষয়টি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দেশের প্রধান তেল স্থাপনা গুপ্ত খাল এলাকায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির তেল লোপাটের সাথে জড়িত রয়েছে। বিদেশ থেকে তেল আসার পর জাহাজ থেকে পাইপযোগে কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন তেল কোম্পানিসমূহের ট্যাংকে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ঐ জ্বালানি তেল নৌপথে, রেলওয়ে ওয়াগন ও ভাউজারযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো হয়। জাহাজ থেকে তেল গ্রহণ এবং তা নৌপথের জন্য জাহাজ, রেল ওয়াগন ও ভাউজারে ভর্তি করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে। এতে করে তেলের পরিমাণ কম-বেশি করার ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট কাজ করে থাকে। বিশেষ করে তেল গ্রহণ ও দেয়ার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা এবং তেলে ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে পরিমাণগত কম-বেশি করা হয়। গুপ্ত খালস্থ প্রধান স্থাপনায় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ চক্রই কারসাজির মাধ্যমে তেল চুরি করে তা বাইরে বিক্রি করে থাকে।

সূত্রে জানা যায়, ৬৩ হাজার লিটার অতিরিক্ত তেল পাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। কারণ তাপমাত্রার কম-বেশির কারণে এতো বেশি পরিমাণ তেল (গেইন/অর্জন) হতে পারে না বলে বিপিসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। বিপিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরির ঘটনায় কার্যকর শাস্তিমূলক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তেল চুরির ঘটনা একপ্রকার ওপেন সিক্রিট হিসেবে আলোচিত। তাছাড়া বিশ্বে তেল সেক্টর সম্পূর্ণ অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকলেও বাংলাদেশের তেল সেক্টর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলে আসছে। তবে সম্প্রতি একটি বিদেশি কোম্পানির সাথে পুরো তেল সেক্টরকে অটোমেশনের আওতায় আনার চুক্তি হয়েছে বলে বিপিসি থেকে জানানো হয়।

এদিকে যমুনার তিনটি ট্যাংকে অতিরিক্ত তেল পাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রাখা বিক্রি করতে না পারায় পরিমাণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জাহাজ থেকে তেল গ্রহণের সময় বেশি তাপমাত্রা দেখিয়ে জাহাজে তেলের লোকসান বেশি দেখানো হয়।

বিপিসির জিএম (বাণিজ্যিক) আবু হানিফ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ট্যাংকসমূহের তেল মাপে অতিরিক্ত তেল পাওয়া গেছে। যমুনা অয়েল কোম্পানির এমডি গিয়াসউদ্দিন আনসারি জানান, তেল তাপমাত্রার কারণে গেইন হয়েছে। অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তিনি জানেন না বলে জানান।