বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে নতুন লক্ষ্য ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের মঞ্চে স্বপ্নের আলোটা খুব বেশিক্ষণ জ্বলেনি। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবল দল ব্রাজিল আবারও থমকে গেছে প্রত্যাশার দেওয়ালে। কিন্তু সেই ব্যর্থতার ধুলো ঝেড়ে সামনে তাকাতে শুরু করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলকে সফল করতে হলে অন্যের ফুটবল নকল নয়, নিজেদের খেলোয়াড়দের শক্তিকেই নতুন দর্শনের ভিত্তি বানাতে হবে।

গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইতালিয়ান এই কোচ। বিশ্বকাপের আগে দল গঠনের জন্য খুব বেশি সময় হাতে পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে ব্রাজিলও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শেষ ষোলোয় দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। 

সেই ম্যাচে ব্রাজিল যেন নিজেদেরই ছায়া হয়ে ছিল। আক্রমণ, মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণ-সব বিভাগেই পিছিয়ে পড়েছিল দলটি। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে বলের দখল। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৩.৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল ব্রাজিল, যা দলটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম হতাশাজনক পরিসংখ্যান।

এই ব্যর্থতার পর সমালোচনার তির ছুটে আসে আনচেলত্তির কৌশলের দিকেও। অনেক সাবেক ফুটবলার পর্যন্ত তার বিদায় চেয়েছিলেন। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) আস্থা হারায়নি। বরং ভবিষ্যতের জন্য তার পরিকল্পনার ওপরই বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বকাপ শেষে রিও ডি জেনেইরোতে ফিরে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, সব ম্যাচে বলের দখলই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। বরং খেলার ধরন নির্ভর করা উচিত মাঠে থাকা ফুটবলারদের বৈশিষ্ট্যের ওপর। আনচেলত্তির ভাষায়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো ফুটবলার যখন দলে থাকে, তখন তাদের গতিকে কাজে লাগিয়ে আরও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাই সবচেয়ে কার্যকর। তিনি স্পেনের উদাহরণ টেনে বলেন, তাদের খেলার ধরন আলাদা, কারণ দলটির আক্রমণভাগের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।

আনচেলত্তির বিশ্বাস, প্রতিটি দলের কৌশল তৈরি হওয়া উচিত খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ও স্বভাবের সঙ্গে মিল রেখে। নরওয়ের বিপক্ষে কম বল দখল নিয়ে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক হলেও বর্তমান ব্রাজিল দল দীর্ঘ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার জন্য গড়ে ওঠেনি বলেই মনে করেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে যদি আরও শীর্ষমানের মিডফিল্ডার উঠে আসে, তাহলে ব্রাজিলও আবার বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে পারবে বলে তার বিশ্বাস।