নিষেধাজ্ঞার পর অনুমতি মিললেও ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন না মার্কিন কংগ্রেসের মুসলিম নারী সদস্য রাশিদা তালিব। গতকাল শুক্রবার এই টুইট বার্তায় তিনি বলেন, আমি সব সময় বর্ণবাদ, নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। তাই নিপীড়নমূলক পরিস্থিতিতে আমি নানির সঙ্গে দেখা করতে ইসরাইল যাচ্ছি না।
মার্কিন কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব রবিবার পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম সফরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের এই সফর ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে তাদের সফরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, ওই দুই নারীকে সফরের অনুমতি দেওয়া হবে ইসরাইলের দুর্বলতা। কারণ তারা ইসরাইল ও সকল ইহুদিকে ঘৃণা করেন। কোনোভাবেই তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো যাবে না। এই টুইটের পর বৃহস্পতিবার ইসরাইলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই দু’জনের সফরে নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের আইন অনুযায়ী, যারা দেশটিকে বর্জনের আহ্বান জানায় তাদেরকে সেদেশে সফর করতে দেওয়া হয় না।
এরপর বৃহস্পতিবার মানবিক দিক বিবেচনায় সফরের অনুমতি দিতে ইসরায়েলকে চিঠি লেখেন রাশিদা তালিব। চিঠিতে তিনি বলেন, আমার ৯০ বছর বয়সী নানি পশ্চিমতীরের কাছে বেইত উর আল-ফোউকা এলাকায় বসবাস করেন। হয়তো তাকে দেখার এটিই ছিল শেষ সুযোগ। এরপর গতকাল শুক্রবার ইসরাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েহ দেরি এক বিবৃতিতে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় রাশিদা তালিবকে সফরের অনুমতি দেওয়া হবে। কারণ এক চিঠিতে তিনি সব নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে রাশিদা তালিবকে শর্ত সাপেক্ষে সফরের অনুমতি দেওয়ার নিন্দা জানান পশ্চিমতীরে বসবাসরত তার স্বজনরা। পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে ইসরাইল সফর না করারও আহবান জানান।
এরপরই টুইট করে সফর বাতিলের ঘোষণা দেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য তালিব। তিনি বলেন, আমাকে নীরব করা এবং আমার সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করাটা নানি আমার কাছ থেকে আশা করেন না। এর মাধ্যমে আমার একটি অংশের মৃত্যু ঘটবে। এ কারণে আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি না। গত বছরের নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব। তারা ইসরাইলের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।