‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল’, মোদিকে কটাক্ষ দীপকের

ভারতের সংসদে পাবলিক পরীক্ষা সংশোধন বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশিত ভিডিও বার্তার জবাবে কটাক্ষ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত সেলফি-স্টাইলের এক ভিডিওতে মোদি নতুন আইনকে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস মাফিয়া’দের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর আইনের মাধ্যমে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার অব্যাহত রাখবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইনস্টাগ্রামে দিপকে মন্তব্য করেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল।’

দেশজুড়ে চলমান প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মধ্যেই তার এই মন্তব্য আসে। সিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া প্রশ্ন ফাঁসবিরোধী সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন আইনে পরীক্ষা জালিয়াতির জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিলটি পাস হওয়ার আগেই এর সমালোচনা করে সিজেপি বলেছিল, সংশোধনীতে প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধের চেয়ে ঘটনার পর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় বিতর্ক চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ তৈরি করা পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো দূর করতে বিলটিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

তার ভাষায়, ‘আপনারা প্রশ্ন ফাঁসের পরের সব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন—ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত, কঠোর শাস্তি কিংবা জরিমানা। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কী করা হবে, সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।’

তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পুনর্গঠন এবং পরীক্ষা পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিপকে বলেন, ‘আইন আসতেই থাকবে। কিন্তু যাদের হাতে বাস্তবায়নের দায়িত্ব, তাদের সদিচ্ছা না থাকলে কোনো আইনই কার্যকর হবে না।’

সরকার ঘোষিত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দিপকের দাবি, আদালতের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রথম শুনানিই সিবিআইয়ের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় স্থগিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যত আইনই তৈরি করুন না কেন, যারা তা বাস্তবায়ন করবে তারা যদি দায়িত্বশীল না হয়, তাহলে সেই আইনের মূল্য কী?’

প্রধানমন্ত্রী মোদি এ পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে চারটি সেলফি-স্টাইলের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ ভিডিওটি প্রকাশিত হয় গত বৃহস্পতিবার।

মোদির এই ধরনের ভিডিও বার্তারও সমালোচনা করেছে সিজেপি। এর আগের দিন দিপকে মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বদলে মোদির একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়া উচিত।

মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি যদি এতই ভালো ইনফ্লুয়েন্সার হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে সেই কাজই করা উচিত এবং অন্য কাউকে দেশের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’

একই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘নতুন নতুন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপনি জেন-জি প্রজন্মের সমর্থন পাবেন না। প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নয়, হৃদয়ের অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করা প্রয়োজন।’