ভারতে ৬ বাংলাদেশি আটক

ভারতের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফ। 

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী অপারেশন ভিস্টা ওয়ান পয়েন্ট ও অভিযানের আওতায় রোববার ( ৩ আগস্ট) তাদের আটক করা হয়। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃত এই ৬ বিদেশি নাগরিক তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় প্রতি সফরে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত এক বিশেষ যাচাইকরণ অভিযানের সময় এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 

তারা আরও জানান, আটককৃতদের পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের নথিপত্র যাচাই শেষে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করা হয়েছে। এরপর ওই ৬ জনকেই সেবা ধামের ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবেন।

এছাড়া তাদেরকে আটকের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়িছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা।

তিনি বলেছেন, দুই নারীসহ ছয় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে আসাম পুলিশ। পরে প্রতিবেশী বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ছয় বাংলাদেশিকে আটকের পর ফেরত পাঠানো হয়েছে.. সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আসাম পুলিশের সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ওই ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আটককৃতদের সবাইকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে জানালেও সীমান্তের কোন সেক্টর থেকে ওই বাংলাদেশিদের আটক করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি তিনি। বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত আছে বলেও গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন আসামের এই মুখ্যমন্ত্রী।

আসামের পুলিশ বলেছে, গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৭ বাংলাদেশিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটকের পর ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও আসাম পুলিশ বলেছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ লাগোয়া আসামের এক হাজার ৮৮৫ কিলোমিটার সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।