নির্বাচনী ময়দানের নেপথ্য কারিগর হিসেবে পরিচিত সাবেক ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর এবার সরাসরি লড়াইয়ে নেমেই বড় জয় পেয়েছেন। বিহারের রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে তার নবগঠিত দল ‘জন সুরাজ পার্টি’ (জেএসপি) প্রথমবার নির্বাচনী সাফল্যের স্বাদ পেল।
সোমবার (৩ আগস্ট) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এনডিটিভি জানায়, টানা তিন দশক ধরে এই আসনে থাকা বিজেপির একচ্ছত্র আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। জয়ের পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিহারের সাধারণ মানুষ এই রায়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। জনগণ এখন সুশিক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে এমন নেতৃত্ব চায়। অপরাধী কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে রাজ্য পরিচালনার ভার দিতে ভোটাররা আর প্রস্তুত নয়।
নির্বাচনোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশান্ত কিশোর প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে বাঁকিপুরে দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক পরিবর্তন আনবেন তিনি। একই সঙ্গে তার কার্যালয় কেবল এই আসনের জন্য নয়, বরং পুরো বিহারের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানান নবনির্বাচিত এই বিধায়ক।
প্রশান্ত কিশোরের এই জয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের এই উৎসবে বাঁকিপুরের মানুষ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছে। জনগণের এই রায়কে তিনি সম্মান জানান এবং বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য, বাঁকিপুর আসনটি পাটনা সাহিব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত এবং দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এখানে বিজেপির জয়জয়কার ছিল। এই আসনের বিধায়ক নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। দিল্লি ও পাটনার ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হওয়া এই নির্বাচনে তরুণ বা ‘জেন-জি’ ভোটারদের বড় সমর্থন প্রশান্ত কিশোরের পক্ষে গেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিজেপি এই উপনির্বাচনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মুখে পড়েছিল। তাদের প্রথম মনোনীত প্রার্থী অভিষেক কুমার সিনহা শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে নীরজ কুমারকে প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) রেখা কুমারীকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে ১ বছরের মাথায় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ছিনিয়ে এনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল জন সুরাজ পার্টি। দলটির বিহার প্রধান মনোজ ভারতী এই বিজয়কে ‘নীরব ভোটারদের জয়’ এবং বিহারের আগামীর পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।