দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপদাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। তীব্র এই তাপদাহকে 'জাতীয় দুর্যোগ' হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এ ঘোষণা দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট লি বলেন, অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এমন চরম পরিস্থিতি থাকতে পারে। এ অবস্থা মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার জরুরি।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে রোববার তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটাই শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো রাজধানী সিউল ও পার্শ্ববর্তী গিয়ংগি অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়। মঙ্গলবার পুরো সিউলজুড়ে এই সতর্কতা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সতর্কতার আওতায় কৃষিকাজ, খেলাধুলা ও নির্মাণশ্রমসহ খোলা জায়গায় কাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিউলের ইয়ংদেউংপো এলাকায় নিম্নআয়ের মানুষদের বসবাসের পরিচিত এক এলাকায় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জীবনে এমন তীব্র গরম তারা আগে দেখেননি। সরকার কিছু বাসিন্দাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী আবাসনে সরিয়ে নিয়েছে। তবে ওই এলাকায় অনেক গৃহহীন মানুষ এখনো রাস্তায়ই থাকছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় দমকলকর্মী ও কর্মকর্তারা রাস্তায় পানি ছিটাচ্ছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ মে থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ২ হাজার ২৫ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জনেরই বয়স ৮০ বা তার বেশি।
মঙ্গলবার সিউল ও গোয়াংজুতে তীব্র গরমের কারণে নির্ধারিত দুটি বেসবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।