থানায় ৭ দিন আটক থাকার পর মালিকের কাছে ফিরল সেই অপরাধী হাতি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর জব্দ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানা হেফাজতে থাকা হাতিটি আদালতের নির্দেশে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আদালত এক আদেশে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ জুলাই সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে আটক করে মারধর করে এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে উদ্ধার করে আটক করে এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে।

পরদিন পুলিশ আটক মাহুত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের বাসিন্দা বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে জব্দ করা হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে হাতিটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গেছে, তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

তবে আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনেই ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত সাত দিন ধরে হাতিটি সদরপুর থানায় বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এ সময় মালিকের পক্ষ থেকে পাঠানো মাহুত নাজমুল সরদার (১৭) হাতিটির গোসল, খাবার ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন।

একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের প্রয়োজন হওয়ায় থানায় এর খাদ্যের ব্যবস্থা করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ও মাহুত স্থানীয় বাসিন্দা এবং মালিকের সহযোগিতায় প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি স্থানীয় মানুষেরও ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ থানায় এসে হাতিটি দেখতে ভিড় করেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, আদালতের নির্দেশ হাতে পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।