বর্ষাকাল গরমের তীব্রতা থেকে মুক্তি দেয়, নিয়ে আসে স্বস্তি। এ সময় বাঙালির মন উড়ু উড়ু করে। বৃষ্টি পড়লেই ভাজাপোড়া খেতে ইচ্ছা করে। মুখরোচক সব খাবার যেন বৃষ্টি দিনের উৎকৃষ্ট সঙ্গী। তবে শুধু বাইরের খাবার নয়, ঘরে রান্না করা খাবার থেকেও হতে পারে খাদ্যজনিত বিষক্রিয়া। অনেকেই মনে করেন রাস্তার খাবার খেলেই পেটের সমস্যা হয়।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় সমস্যা লুকিয়ে থাকে নিজের রান্নাঘরেই। প্রতিদিনের কিছু ছোট ভুল অজান্তেই খাবারে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়, যা পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বর্ষাকালে শুধু খাবারের গুণগত মান নয়, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
একই ছুরি ও কাটিং বোর্ডে সব খাবার কাটা
অনেকেই একই ছুরি দিয়ে কাঁচা মাছ, মাংস, শাকসবজি এবং পরে ফল বা রান্না করা খাবার কেটে ফেলেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। এভাবে কাঁচা খাবারে থাকা জীবাণু সরাসরি রান্না করা বা খাওয়ার উপযোগী খাবারে চলে আসে। একে বলা হয় ক্রস-কন্ট্যামিনেশন। একইভাবে কাটিং বোর্ডও প্রতিবার ব্যবহারের পর গরম পানি ও ডিশওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
ডাস্টবিন পরিষ্কার না রাখা
রান্নাঘরের ডাস্টবিন খোলা রাখা বা কয়েক দিন ধরে আবর্জনা জমিয়ে রাখার অভ্যাসও পেটের রোগের বড় কারণ হতে পারে। পচা খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও মাছি জন্মায়। সেখান থেকে জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে বা মাছির মাধ্যমে খাবারে পৌঁছে যেতে পারে। তাই ডাস্টবিনে সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন আবর্জনা ফেলে ডাস্টবিন পরিষ্কার রাখুন।
শাকসবজি ভালোভাবে না ধোয়া
বর্ষাকালে শাকসবজি ও ফলের গায়ে মাটি, কীটনাশক, জীবাণু ও পরজীবীর ডিম লেগে থাকতে পারে। শুধু পানিতে একবার ধুয়ে রান্না করলে সেগুলো পুরোপুরি দূর হয় না। রান্নার আগে শাকসবজি পরিষ্কার পানিতে কয়েকবার ধুয়ে নিন। চাইলে হালকা লবণ মেশানো পানি বা অল্প ভিনেগার মেশানো পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। এতে জীবাণুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
একই তেল বারবার ব্যবহার করা
মাছ বা ভাজাপোড়া করার পর অনেকেই সেই তেল বারবার ব্যবহার করেন। কিন্তু বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করলে তেলের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত হতে শুরু করে এবং ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন তেল নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই যতটা সম্ভব একই তেল বারবার ব্যবহার না করাই ভালো।
হাত পরিষ্কার না করা
রান্না শুরুর আগে এবং কাঁচা মাছ-মাংস ধরার পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া জরুরি। একইভাবে রান্নার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আবার হাত না ধুয়ে খাবার স্পর্শ করাও জীবাণু ছড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে।
ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণেও সতর্ক থাকা
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। খাবার ঠান্ডা হলে পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। একই সঙ্গে ফ্রিজও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
কীভাবে এড়াবেন খাদ্যজনিত বিষক্রিয়া?
এছাড়া রান্নার আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, গরমের সময়ে রাস্তার খোলা খাবার ও আগে থেকে কেটে রাখা ফল খাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সামান্য সতর্কতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে পেটের নানা সমস্যা থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।