ভারতের নয়াদিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার করা ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় ভারত সরকারের কাছে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দেশে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রথমে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন।
দুই বছর ধরে দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও বার্তা দিয়ে আসছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই–মেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। এই প্রথম দিল্লির কোনো অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার ঘোষণা নিয়ে বিশ্লেষকদের মত
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার দুই বছর পর তিনি এমন ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে নিজের গুরুত্ব বজায় রাখা, সমর্থকদের ধরে রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে আবার সক্রিয় করার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে এমনটা বলছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পেছনে তিনটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি মার্কিন চিন্তক প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক। তার তুলে ধরা কারণগুলো হচ্ছে—
প্রথমত, তার (শেখ হাসিনার) ধারণা হতে পারে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় তার জন্য বেশি অনুকূল। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। যে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়, সেই রায়ও ওই সরকারের আমলেই হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাই তিনি আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নিজের নাম কলঙ্কমুক্ত করতে চাইতে পারেন।
কুগেলম্যানের মতে, সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যাটি হলো তিনি (হাসিনা) রাজনীতি ছেড়ে শুধু বাংলাদেশে ফিরে অবসর জীবন কাটাতে এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করতে চান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরতে চান।
ওই নেতার মতে, দলের প্রতি নেতা-কর্মীদের আনুগত্যের প্রতিদান দেওয়ার একটি উপায় হলো তার দেশে ফিরে আসা।
আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বর্তমানে শেখ হাসিনার কড়া সমালোচক মাহমুদুর রহমান মান্না তার (হাসিনা) দেশে ফেরার ঘোষণাকে নিজের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন কিছু নেতা আছেন, যাদের জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা আছে। দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার জন্য শেখ হাসিনা তাদের কিছুটা সুযোগ দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।’
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) দলের স্বার্থে দেশে ফিরবেন, এমন ধারণা অমূলক।’
ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, দেশে ফেরার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চান।
হাসিনা দেশে ফিরলে কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ খুব সীমিত থাকবে। তবে তার উপস্থিতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তার প্রত্যাবর্তন সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সক্রিয় করে তুলতে পারে। এতে সহিংস সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে এবং তার বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
কুগেলম্যানের মতে, ‘তার শুধু দেশে ফিরে আসাটাই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট হবে।’
অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদার এএফপিকে বলেন, ‘ভারত থেকে ফেরার পর সরাসরি কারাগারে নেওয়া হলেও বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। তার ফিরে আসাটা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে। সরকার তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছে।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘যে মানুষটিকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাইছি, তিনি নিজেই দেশে ফেরার কথা বলছেন। আমরা প্রস্তুত আছি। তাকে আসতে দিন, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।’
শেখ হাসিনা এমন সময়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন, যখন বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে শেখ হাসিনার বিষয়টি এখনো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বিতর্কের কারণ হয়ে আছে।
বাংলাদেশ সরকার বারবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, এ অনুরোধ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিএনপির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছিলেন, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নয়াদিল্লির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
জয়সোয়াল বলেন, ‘এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে সরকার সমর্থন করে না।’
বাংলাদেশের কড়া প্রতিক্রিয়া
শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ৩ আগস্ট ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। ওই দিন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা বলেছিলেন।
শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর বুধবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারত সরকারের প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।’
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।
‘ভারত চাইলে সংবাদ সম্মেলন ঠেকানো যেত’
মাইকেল কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘এই সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে ভারত মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় না, এই ব্যাখ্যা ঢাকার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’
কুগেলম্যানের মতে, ভারত চাইলে এই সংবাদ সম্মেলন ঠেকাতে পারত। তাই বাংলাদেশ সম্ভবত এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লির আরেকবার প্রশ্রয় দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেই দেখবে।
ওপি জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, এমন একসময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন প্রায় দুই বছর ধরে টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারত ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
শ্রীরাধা দত্ত আরও বলেন, ‘পর্যটক ভিসা চালু হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্পর্কের উন্নতি খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।’
তবে শ্রীরাধা দত্ত এটিকে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, ‘ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে
দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পক্ষে শেখ হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়াটা বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। তবে তিনি যদি নিজ ইচ্ছায় দেশে ফেরেন, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। এমনও গুঞ্জন আছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত নেপথ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল উষ্ণ। কিন্তু তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশেষ করে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চীনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে এবং ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি বলে নয়াদিল্লির দাবি।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে ওঠার আশা তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য জরুরি। কারণ, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ওই অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে ভারত ঢাকার সহযোগিতাও চায়।
এসব কৌশলগত প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি বেশ কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে দেশটি পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠায়।
চলতি বছরের এপ্রিলে জ্বালানিসংকটের সময় বাংলাদেশে ৪৫ হাজার টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলতে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সহজ করতে তাঁকে মন্ত্রীর মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য (বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।
ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের সময় বর্তমানে গঙ্গায় পানিপ্রবাহের পরিমাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের ওপর পড়া প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত চুক্তিটি নবায়ন করা গেলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ—দুই জায়গায় এখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় থাকায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।
ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করা এখন জরুরি। তবে তার আগে শেখ হাসিনার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে যে কূটনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা সামাল দিতে নয়াদিল্লিকে পদক্ষেপ নিতে হবে।