যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও সেখানে নৌ বহর পাঠাতে দ্বিধায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এই সংকটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাত সৃষ্টি করতে চাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের তাগিদ দিয়ে আসলেও ইউরোপীয় সরকারগুলো এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অনিচ্ছুক যা তারা নিজেরা শুরু করেনি। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার জানান, অঞ্চলের প্রধান উপসাগরীয় দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন ছাড়া যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্স এই অভিযানে নেতৃত্ব দেবে না।
যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের ইঙ্গিত দিলেও বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও সমন্বয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে যেকোনো পদক্ষেপ মাঠের পরিস্থিতি এবং টেকসই রাজনৈতিক চুক্তির ওপর নির্ভর করছে।
কিং’স কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক শিক্ষক আমজাদ রশীদ জানান, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব একতরফাভাবে আক্রমণ পরিচালনা করেছে এবং ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি, ফলে তারা না থাকা যুদ্ধের দায় নিতে প্রস্তুত নয়।
এদিকে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন পথ নির্ধারণের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়া দেওয়ার কৌশল শেখার পর ইরান এত সহজে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।
সূত্র: আল জাজিরা