পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। একইসঙ্গে এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মাতুব্বরের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। এক পর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি বাঁশের আড়া খোলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান (হবি মেম্বার) বলেন, পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা। 

তবে আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সমর্থকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছে।

বছির মাতুব্বর বলেন, বাঁশের আড়া খোলার সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়ীতে হামলা চালায়। এসময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হয়। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছে।

এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে ঐ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 

অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।