রুশ-মার্কিন নতুন স্নায়ুযুদ্ধ

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

পৃথিবীর ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রান্ত হয়েছে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধে। এই স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত বলা যায় বলশেভিক বিপ্লবের পর থেকেই। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ধনতান্ত্রিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমগ্র পূর্ব ইউরোপ গ্রাস করে তার ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ সীমা সম্প্রসারিত করে। অপরদিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বিজয়ী অপর তিন শক্তি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন এবং ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপ ভাগাভাগি করে নেয়। তাদের এই ভাগাভাগির মাধ্যমে বৈরিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকট হয়ে ওঠে। কিন্তু আধিপত্যের এই লড়াই শুধুমাত্র ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর সর্বত্র। এশিয়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার জাতিসমূহ দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। কোরিয়া ও ভিয়েতনামের মতো যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ সত্ত্বেও অপর পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে তারা ঐ যুদ্ধসহ স্বার্থ সুবিধার সকল ক্ষেত্রে অস্ত্র, অর্থ ও সামর্থ্য দিয়ে মার্কিন প্রতিপক্ষের স্বপক্ষে দাঁড়ায়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপ, সরকার বদল ও সম্পদ কুক্ষিগতকরণ— এসব ক্ষেত্রে দুই পরাশক্তি সমান প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দুই পরাশক্তির এইসব প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ ‘কোল্ড ওয়ার’ বা স্নায়ুযুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। স্নায়ুযুদ্ধের বিকল্প বাংলা হিসেবে অনেকে ‘শীতল যুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ বা ‘শীতল যুদ্ধের’ বৈশিষ্ট্য হলো— যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব কিন্তু যুদ্ধ নয়। ১৯৯০ সালে সমাজতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে পরাশক্তি হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবলুপ্তি ঘটে। অবসান হয় দ্বৈত পরাশক্তির বৈশ্বিক ধারণা। একক আধিপত্যশীল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নতুন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা’ (New World Order) ঘোষণা করে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, যুদ্ধহীন শান্তিময় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠবে। নতুন ধরনের সশস্ত্র তত্পরতা ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানে পৃথিবীর শান্তি বিনষ্ট হয়। একক বৈশ্বিক আধিপত্যের কারণে আন্তর্জাতিক ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হয়। এদিকে আঞ্চলিক শক্তিসমূহের অভ্যুদয়ের পাশাপাশি পুরোনো সোভিয়েত ইউনিয়নের স্থলাভিষিক্ত রুশ ফেডারেশন তাদের পুরোনো পরাক্রম ফিরে পেতে চায়। নবগঠিত রুশ ফেডারেশন প্রাথমিক অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা রক্ষা করে চললেও মাঝে মধ্যেই তারা পরাশক্তির পরিচয় দিতে চায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি যখন বসনিয়া সংকটে হস্তক্ষেপ করে এবং সার্বিয়ায় বোমা বর্ষণ শুরু হয় তখন রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলিসন তার তীব্র বিরোধিতা করেন। এরপর ভ্লাদিমির পুতিন যখন ক্ষমতায় ফিরে আসেন তখন বিরোধিতার একটি ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনকালের শেষদিকে পুতিন জর্জিয়া আক্রমণ করে পরাশক্তির নমুনা প্রদর্শন করেন। ২০১৪ সালের দিকে পুতিন আরো আগ্রাসি হয়ে ওঠেন। এ সময়ে ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন দেখা দিলে পশ্চিমাবিশ্ব বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নেয়। অপরপক্ষে রুশ ফেডারেশন তাদের সমর্থিত প্রেসিডেন্টের পতন ও ইউক্রেনে তাদের বিশেষ সুবিধার অবসান হওয়ায় ইউক্রেন আক্রমণ করে। তারা ইউক্রেনের রুশ ভাষাভাষী অঞ্চল ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। একইসঙ্গে তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ ভাষাভাষীদের ব্যবহার করে অব্যাহত গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। এর প্রতিবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমাবিশ্ব রুশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ গড়িয়া তোলে। ন্যাটোসহ পশ্চিমাবিশ্ব ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে। এ সময়ে আর একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটে। গতানুগতিকভাবে অপর দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদনাম রয়েছে। এবারে উল্টো অভিযোগ আসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে কর্ম তত্পরতা চালিয়েছে বলে জোর অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টির এখনো সমাপ্তি ঘটেনি। আরো একটি বিষয়ে রুশ মার্কিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। গ্রেট ব্রিটেনে একজন সাবেক রুশ গুপ্তচরকে হত্যা করার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়। এ ঘটনায় পালটাপালটি কূটনৈতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। সীমান্ত সম্প্রসারণে সক্ষম ভ্লাদিমির পুতিন এবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তথা পশ্চিমা প্রভাব খর্ব করতে অগ্রসর হন। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে কার্যত পুতিন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ নেন। রুশ সমর্থনে পরাজিত প্রায় আসাদ অবশেষে যুদ্ধ জয়ের প্রান্তসীমায় পৌঁছেছেন। সিরিয়া থেকে পাততাড়ি গুটাতে হয় মার্কিন পক্ষকে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ সিরিয়ায় মার্কিন তথা পশ্চিমা পক্ষের পরাজয়কে রুশ ফেডারেশনের প্রভাব বলয়ের সম্প্রসারণ বলেই বিশ্বাস করেন। পুতিন সরকার পশ্চিম ইউরোপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সচেষ্ট তারা ঐসব অঞ্চলে চরম দক্ষিণপন্থিদের সহায়তা দিচ্ছে। পুতিন নিজেকে খ্রিষ্টধর্মের একজন রক্ষক বলে দাবি করছেন। অভিবাসী ইস্যুতে বিক্ষুব্ধ ইউরোপীয় জনমতকে সমর্থন দিচ্ছেন রুশ নেতা। এভাবে তিনি রুশ ফেডারেশনের সমর্থনের ভিত্তি তৈরি করছেন এবং পশ্চিমাদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ না পাঠালেও ইরানের পক্ষে শক্ত সমর্থন ব্যক্ত করছেন। আঞ্চলিক প্রভাববলয় রাজনীতিতে রুশ ফেডারেশন ক্রমশ প্রাধান্য অর্জন করছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে যে সামরিক জোট গড়ে উঠছে মস্কো তার বিরোধিতা করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার দেশকে একক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পর বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, মস্কো যদি মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি—আইএনএফ মেনে না চলে, তাহলে চুক্তিতে থাকবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ঐ ঘোষণার পরপরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের দেশের ওপর আরোপিত ঐ চুক্তির শর্তগুলো স্থগিত করেন। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও গবেষণার গতি বাড়াতে চাইছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ায় ২০২০ অর্থবছরের জন্য নতুন করে ৯৬ মিলিয়ন ডলার তহবিলের অনুমোদন দেয়া হয় ট্রাম্পকে। কিন্তু ট্রাম্পের ঐ তহবিল ছাড়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ : ‘প্রতিনিধি পরিষদ।’ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা গবেষণার জন্য তহবিল পেতে ট্রাম্প প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে। বিরোধীরা এই তহবিল অনুমোদনে রাজি হচ্ছে না।

২ আগস্ট প্রদত্ত বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভবনাকে নাকচ করে দেন। তার যুক্তি ‘এটাতে ফিরে যাওয়া মানে রাশিয়াকে সাহায্য করা। রাশিয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে আসছে।’ অপরদিকে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পালটা অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির অবসান ঘটেছে। চুক্তিটি বাতিল হওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বানও জানিয়ে রাশিয়া। দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রাইবোকভ সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেন, ‘মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অন্যান্য দেশকে অনুরোধ জানিয়েছি আমরা।’ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিলোপের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ থামানোর একটি অতি প্রয়োজনীয় চুক্তি শেষ হতে চলেছে। এটা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি কমাবে না বরং বাড়াবে।’

বিবিসি পরিবেশিত আরেকটি খবরে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১ আগস্ট রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যুক্তরাজ্যে ২০১৮ সালের মার্চে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়া স্ক্রিপালের ওপর বিষাক্ত গ্যাস নভিচক হামলার ঘটনার জের ধরে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো রাশিয়াকে ঋণ দিতে পারবে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও যাতে মস্কোকে দেওয়া ঋণ আর না বাড়ায়, সেটির বিরোধিতা করবে ওয়াশিংটন।

উপর্যুক্ত ঘটনাপরম্পরা প্রমাণ করে যে বিশ্ব আবার নতুন করে পুরোনো স্নায়ুযুদ্ধের কবলে নিপতিত হতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহল কথিত নতুন স্নায়ুযুদ্ধ সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলে তা পৃথিবীর ছোটো ছোটো জাতি ও দেশসমূহের স্বাধীনতা রক্ষায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করবে। বিশেষজ্ঞদের আরেক দল মনে করেন, ঐসব ঘটনায় ভারসাম্য নয় বরং যুদ্ধের আশঙ্কা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে। স্নায়ুযুদ্ধের নতুন অধ্যায় শুরুর বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউক্লিয়ার ক্রাইসিস গ্রুপের পরিচালক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ জন ওম্ফস্টাল। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ফলে রুশ-মার্কিন প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুদ্ধাবস্থা পৃথিবীর স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করবে। উভয় পক্ষ নতুন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও সমরাস্ত্রের সন্ধানে ব্যাপ্ত হবে, যা স্নায়ুযুদ্ধোত্তর কালের অর্জিত শান্তি ভঙ্গ করবে।

n  লেখক: অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়