ভারতের বিহার রাজ্যের মাইহার জেলার আমুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে এসে চত্বরে মলত্যাগ করা এবং সেই ময়লা পরিষ্কার করতে ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
শনিবার (৮ আগস্ট)মাইহারের আমুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের এক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জানিয়েছে, স্যার মাতাল হয়ে আসেন। স্কুলের ভিতরেই পায়খানা করেন আর আমাদের দিয়ে পরিষ্কার করান। পান-জর্দা চিবিয়ে সব জায়গায় থুথু ফেলেন। একই ছাত্র বলেছে, স্যার তাকে মল পরিষ্কার করতে বাধ্য করেছেন এবং গালিগালাজ করেছেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি নামতাও ঠিকমতো শেখাতে পারেন না।
অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক কোল প্রায়ই স্কুলে দেরি করে আসেন। অনেক সময় বেলা ১২টার দিকে পৌঁছান। তার অনুপস্থিতিতে শিশুরা দিকনির্দেশনা না পেয়ে ঘুরে বেড়ায়। নিয়মিত ক্লাস হয় না, দুপুরের খাবারও বন্ধ থাকে। স্কুল প্রাঙ্গণে গুটখার থুথুর দাগ দেয়ালে স্পষ্ট দেখা যায়।
রাধা দ্বিবেদী নামের এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, “শিক্ষক শিশুদের দিয়ে ঘর ঝাড়ু দেওয়া ও পানি টানার কাজ করান। তার আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন আসেন, গুটখা চিবিয়ে পুরো স্কুলে থুথু ফেলেন। এতটা মাতাল থাকেন যে কারও সঙ্গে কথা বলার অবস্থা থাকে না। পুরো স্কুলকে টয়লেট বানিয়ে ফেলেছেন। যেখানে খুশি প্রস্রাব-পায়খানা করেন আর শিশুদের দিয়ে পরিষ্কার করান।”
ক্রান্তি যাদব নামের আরেক মা বলেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিক্ষক থাকলে শিশুরা কেবল ঘুরে বেড়ায়। মলত্যাগের পর তিনি শিশুদের দিয়েই পরিষ্কার করান। রুকমণি বুনকার নামের আরেক অভিভাবকও বলেন, বাচ্চারা খাবার বা পানি পায় না, কিছু শেখানো হয় না। দেখভাল করার কেউ নেই।
এনডিটিভির প্রতিনিধি স্কুলে গিয়ে দেখেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ট্যাবলেটে ইউটিউব ভিডিও দেখছিলেন। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। চারপাশের গুটখার দাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাতাল অবস্থায় থাকা কোল বলেন, “আমরা এসব পরিষ্কার করে ফেলব।”
ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ক্লাস্টার প্রধানের মাধ্যমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি