সুগন্ধা ও বিষখালী নদী ভাঙন প্রকট
এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু, নলছিটি (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা ও বিষখালী নদী থেকে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছেন না বালু উত্তোলন। একশ্রেণির অসাধু চক্র বিভিন্ন কৌশলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ফুট বালু উত্তোলন করে। যার ফলে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীভাঙন প্রকট হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটে যুবকের আক্রমণের শিকার হয়েছে। কয়েকটি পয়েন্ট থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন একটি মহল। প্রশাসন মাঝে মধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালন করে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেন। নদী থেকে পলি মাটি উত্তোলন বন্ধ, নদী শাসন এবং ভাঙনরোধে জেলা প্রশাসন তত্পর থাকলেও আইনের ফাঁক-ফোকর ও বিভিন্ন অজুহাতে দেদারসে বালু উত্তোলন করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করছে। অনুরাগ, রাজাবাড়িয়া, চর উত্তমাবাদ, দিয়াকুল, দেউরী, মাটিভাঙ্গা ও কালিজিরা পয়েন্টে থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ক্রমাগত ভাঙনে নদীতীরবর্তী সরই, বারইকরণ, বহরমপুর, লক্ষণকাঠি, উত্তমাবাদ, হদুয়া, রাজাবাড়িয়া, ভবানীপুর, খোঁজাখালী, তিমিরকাঠি গ্রামগুলোর মানচিত্র ছোটো হয়ে আসছে। বালু উত্তোলনকারী চক্র নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে লম্বা পাইপ দিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দূরে তাদের গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বালু। এতে নদীর অতি গুরুত্বপূর্ণ পলিমাটি কমে যাচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলার সরই গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল হোসেন মোল্লা জানান, নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করায় বর্ষাকালে নদী ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। সরই গ্রাম নদীভাঙনে অর্ধেক হয়েছে। উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সুগন্ধা নদী ক্রমাগত ভাঙছে। সরই গ্রামের শতশত বাড়িঘর সুগন্ধা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। এ পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পথে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন। তবে আগের ইউএনও একাধিকবার সুগন্ধা নদীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ড্রেজার আটক করে জরিমানা আদায় করেছেন। তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগৈলঝাড়ায় ড্রেজার মেশিন ধ্বংস
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় খাল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ড্রেজার মেশিন জব্দ করে ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই আদালত অভিযান চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। শনিবার সকালে উপজেলার রাজিহার-বাশাইল ওয়াপদা খালের বাশাইল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস। এ সময় খালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে শ্রাবনী কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদের নিচু জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে আসছিলো প্রকল্প বাস্তবায়নকারী স্থানীয় ঠিকাদার সহিদুল ইসলাম পাইক। অভিযানের সময় অবৈধ ড্রেজারের মালিক বা কোনো শ্রমিক না পাওয়ায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে একই আদালত বাশাইল বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। পণ্য তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না থাকায় দোকান মালিক রহমতউল্লাহকে দুই হাজার টাকা ও ফল ব্যবসায়ী দুলাল মোল্লাকে পচা ফল বিক্রির দায়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।