পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই শান্তির পথে হাঁটবে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো মেনে ইরান শান্তির পথে হাঁটতে প্রস্তুত। এখনই চুক্তিতে পৌঁছানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ দেশে এখন সংহতি, শক্তি ও ঐক্য রয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা সমঝোতা স্মারককে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের তৈরি করা অবিশ্বাসের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিকতার নীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যতটা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে, ইরানও সেই মাত্রায় নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পক্ষ যদি শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির।
এর আগে শুক্রবার পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ইরান নিজেদের অধিকার রক্ষা করে সংলাপ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না।
তিনি জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন। ওয়াশিংটন যতক্ষণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে, ততক্ষণ তেহরানও নিজেদের অঙ্গীকার মেনে চলবে। কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙলে ইরানেরও সেই বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
সম্প্রতি পদত্যাগের গুঞ্জন উড়ছিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সমঝোতা স্মারক নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের গুজবের মধ্যেই তার এই বক্তব্য এসেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ও ছিল। চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।