মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রীর অপসারণ এবং পুনঃপরীক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেছে বিএনপির একটি অংশ। অন্যদিকে, বিএনপির অন্য একটি পক্ষ এ আন্দোলনকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট)সকাল ১১টার দিকে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বিএনপির নেতা-কর্মীরা ‘ঘুষখোর ইউএনও’, ‘পালাইছে রে পালাইছে, ইউএনও পালাইছে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু বলেন, ‘মহম্মদপুরের ইউএনও গোপনে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা ইউএনও মহোদয়কে আগেই বলেছিলাম, যেন সঠিকভাবে যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের অঙ্গসংগঠনের অভিজ্ঞ নেতা-কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’
ইউএনওকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সাবু বলেন, ‘আপনি এখানে চাকরি করতে চাইলে এই ধরনের বৈষম্য থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে। আপনি যদি সঠিকভাবে চলাফেরা করতে চান, তাহলে এই বৈষম্য নিয়ে চলতে পারবেন না। আপনি আমাদের দুর্বল মনে করবেন না।’
অন্যদিকে, নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলী মৃধার নেতৃত্বে অপর অংশটি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছে।
তৈমূর আলী মৃধা বলেন, ‘ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারকে সহযোগিতা করছেন। দলেরই একটি সুবিধাবাদী অংশ সরকার এবং স্থানীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরীকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। মহম্মদপুরের মাটিতে কোনো ছিনতাইকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীর জায়গা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিএনপি, জামায়াত ও সাধারণ মানুষের সমান সুযোগ ছিল এবং কোনো অনিয়ম হয়নি। কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী সরকার ও স্থানীয় নেতৃত্বকে বিতর্কিত করতেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ভিত্তি করে শতভাগ মেধা ও স্বচ্ছতার সঙ্গেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ ছিল না।