ইয়েমেনের মোখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে মোখা বন্দর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। রোববার (৯ আগস্ট) এ হামলায় বন্দরের জেটি, ভবন, বাণিজ্যিক পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা।

তবে হামলায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইজ প্রদেশের মোকা শহরের আবাসিক এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইয়েমেনের উপ-তথ্যমন্ত্রী ফাইয়াদ আলনোমান জানান, শহরের আকাশে ইয়েমেনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাকারী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

আলনোমানের ভাষ্য, হামলায় আবাসিক ভবনের পাশাপাশি মোকা বন্দরের জেটি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মোকা এলাকায় সৌদি সামরিক অবস্থান ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে ‘বড় পরিসরের’ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

সারি দাবি করেন, হামলায় সৌদি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে অবস্থিত। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরটি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিলের পর ইয়েমেনে তুলনামূলকভাবে সংঘাত কমে এলেও গত মাস থেকে দেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে আবারও লড়াই তীব্র হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয়। এরপর ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় সরকারি বাহিনী লড়াই শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতিতে সাময়িক স্থিতিশীলতা আসে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি