কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
আর ১৫০ ফুট ভাঙলে তিস্তার পেটে যাবে শংকরদহ গুচ্ছগ্রাম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-২ (সিভিআরপি) এর আওতায় উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চরশংকরদহ গ্রামে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় দেড় লাখ টাকা করে। গত বছর ৩০ পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এ বছর আরো ৩০ পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু তার আগে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার ভাঙন গুচ্ছগ্রাম থেকে ১৫০ ফুট দূরে। পানি কমলেও তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
গুচ্ছগ্রামের শরিফুল নামের এক ব্যক্তি বলেন, “অনেক আশা করি জায়গা নিছি তাও বুঝি ভাঙি যায়। এরপর কোনটে যামো।”
ঐ এলাকার ইউপি সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এটি নির্মাণ করা হয়। এখানে নদীভাঙন কবলিত ৬০ পরিবার ঘর পাবে। গত বছর ৩০ জনকে দেওয়া হয়েছে। আর বাকি ৩০ পরিবারকে ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এ গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। গুচ্ছগ্রাম রক্ষার জন্য সামনে বাঁধ দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। সেই বাঁধেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিস্তার ভাঙন এসে গুচ্ছগ্রামে লাগছে। তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বাঁশের পাইলিং এর কাজ করলে হয়তো গুচ্ছগ্রামটি রক্ষা করা যেত।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন, গুচ্ছগ্রাম রক্ষার জন্য জরুরি কাজের লোকজন সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু স্রোতের কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ভাঙনের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে স্থায়ী কাজ করা প্রয়োজন।