আন্দোলনে পরাজিতরা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যারা আন্দোলনে বিজয়ী হতে পারে না, তারা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না। বিএনপির নির্বাচনে জেতার স্বপ্ন, দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। তাদের এমন কোনো কাজ নেই, যার জন্য দেশের মানুষ তাদের ভোট দেবে। তারা যতো আস্ফাালন করবে, ততোই পতন হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথসভায় তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টার্নেলস মেগা প্রজেক্টের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। দেশ পিছিয়ে পড়বে। আমরা কি আবারো অন্ধকারের অচলায়তনের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই না। তাই অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে আবারও ক্ষমতায় শেখ হাসিনার সরকার দরকার।’ তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের বিকল্প নেই। আমাদের পরাজয় মানে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়া। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মহাজোটের চূড়ান্ত মনোনীত একক প্রার্থীর কাছে চিঠি বিতরণ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দল ও জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে দল-জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই জোটের প্রার্থীদের হাতে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে ৩০০ নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের হাতে এই চিঠি পৌঁছে যাবে। মনোনয়ন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন হয়নি। তবে কিছু কিছু জায়গায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতে পারে। কারণ জোটের কারণে আওয়ামী লীগের অনেক আসনে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আশা করি জোটের স্বার্থে তারা মেনে নেবেন।’

দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির কাছে রাজনীতির একটি বড় অস্ত্র আছে, সেটা হলো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার। এ জন্য সতর্ক থাকতে হবে। বিরোধীরা নাশকতা করতে পারে, সহিংসতা করতে পারে।  ড. কামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টুর মতো ‘বাঘা বাঘা’ নেতারা এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছেন। হায় রে কি লজ্জা।

‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে’ মর্মে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণই ঠিক করবে কাকে কত আসন দেবে। বিএনপি রমরমা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, টাকা নিয়ে মনোনয়ন দিতে না পেরে বিএনপির অনেক নেতা পালিয়ে গেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসারের সভাপতিত্বে যৌথসভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ।