গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে কসোভো। দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অধিবেশন চলাকালে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তিকে ডিম ছুড়ে মারার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সম্প্রতি হংকংভিত্তিক ইংরেজি পত্রিকা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গত শনিবার পার্লামেন্টে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এ সময় বিরোধীদলীয় এক আইনপ্রণেতা অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে আরেকটি আগাম নির্বাচনের আশঙ্কার সময় এমন ঘটনা ঘটেছে।
ইউরোপের নবীনতম গণতন্ত্রের এ দেশটিতে গত দুই বছরেরও কম সময়ে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে পরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও ভোট বিলম্বিত করার চেষ্টার অভিযোগে টিম কাদ্রিজাজ নামের এক সংসদ সদস্য অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দিকে ডিম ছুড়ে মারেন।
‘ধিক্কার তোমাকে!’ বলে সংসদের সামনের সারিতে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রীর দিকে ডিম ছুড়ে মারেন কাদ্রিজাজ। এ সময় অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং নিরাপত্তাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে সুরক্ষা দেন।
এ ঘটনার পর কাদ্রিজাজ বলেন, ডিম ছুড়ে মারার কারণে যদি আমাকে মূল্য দিতে হয়, তাহলে আমি তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কসোভোর পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও পার্লামেন্টে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে মারা হয়েছিল।
কুর্তির ভেতেভেন্দোসে (ভিভি) দল গত জুনের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। যদিও নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এখনো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই প্রার্থী নিয়ে একমত হতে পারেনি। ফলে কুর্তি এক অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছেন। গত শুক্রবার সংসদের স্পিকার নির্বাচনের সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় কসোভোর রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট