বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করা বা অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য একজোড়া সাধারণ মোজা হতে পারে কার্যকর সমাধান। শুনতে কিছুটা অপ্রচলিত মনে হলেও, ঘুমের আগে পা উষ্ণ রাখার এই অভ্যাসের পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পা উষ্ণ রাখলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এবং দীর্ঘসময় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে সহায়তা করে।
ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ঘুমের প্রক্রিয়ার সঙ্গে শরীরের মূল তাপমাত্রার (কোর টেম্পারেচার) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমাতে শুরু করে। পা উষ্ণ রাখলে হাত ও পায়ের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ভাসোডিলেশন’। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ প্রান্তীয় অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, যা মূল তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমের সংকেত পায়।
‘জার্নাল অব ফিজিওলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিছানায় মোজা পরার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ছয়জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোজা পরে ঘুমালে অংশগ্রহণকারীরা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৭.৫ মিনিট আগে ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হন। এছাড়া তাদের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩২ মিনিট বৃদ্ধি পায় এবং রাতে হঠাৎ জেগে ওঠার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মোজা ব্যবহারের ফলে ঘুমের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৭.৬ শতাংশ উন্নত হয়েছে।
পরীক্ষায় দেখা যায়, মোজা পরার কারণে অংশগ্রহণকারীদের পায়ের তাপমাত্রা গড়ে ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষকরা জানান, উষ্ণ পা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ বাইরে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যা ঘুমের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষণাটি অল্প সংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হওয়ায় এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
তা সত্ত্বেও, যারা রাতে পা ঠান্ডা থাকার কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন বা দেরিতে ঘুমানোর সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্য আরামদায়ক মোজা ব্যবহার একটি কার্যকর ঘরোয়া কৌশল হতে পারে। প্রাচীন এই অভ্যাসটি যে কেবল আরামদায়ক নয় বরং এর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, তা এই গবেষণার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো।