ইত্তেফাক রিপোর্ট
বরগুনা পৌর মেয়রের ছেলে নাফির আল মামুন ঢাকায় বসে ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। ইয়াবার চালান উপকূলীয় বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় এনে বিক্রি করতেন। মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে কক্সবাজারে ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে সাগরপথে ইয়াবার রুটেও কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। তৃতীয় স্ত্রীসহ মামুন ঢাকায় থাকেন। তৃতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইয়াবা ব্যবসা করতেন। গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে মামুনকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় গতকাল নাফির আল মামুনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামুনের বাবা পৌর মেয়রের পাশাপাশি বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। তিনি বর্তমানে বরগুনার সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশের রাজনীতিতে সক্রিয়। মামুন প্রথমে বরগুনা শহরে ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। কিন্তু তার বাবার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে না করে স্থানীয় সাবেক এক সংসদ সদস্যের মেয়েকে বিয়ে করায় বাড়ি থেকে বের করে দেন তার বাবা। এরপর থেকে কখনো ঢাকা কখনো অন্য শহরে থাকতেন মামুন। মামুনকে মাঝেমধ্যে বরগুনা শহরে দেখা যেত।
গতকাল বরগুনা পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘পরিবারের অমতে সাবেক এক সংসদ সদস্যের মেয়েকে বিয়ে করায় ২০০৫ সালে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করি। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই। ইয়াবাসহ সে গ্রেপ্তার হয়েছে এমন খবর আমি শুনেছি। ইয়াবা হয়তো সেবন করে, কিন্তু সে ইয়াবার ব্যবসা করতে পারে আমার বিশ্বাস হয় না। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে ফাঁসাচ্ছে।’
পল্টন থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে গুলিস্তান এলাকা থেকে দুই সহযোগীসহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি ইয়াবায় আসক্ত। এর আগে তিনি দুটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ঢাকায় তিনি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ভ্রাম্যমাণ হিসেবে ইয়াবা নিজেই পৌঁছে দিতেন। তার সঙ্গে ঢাকায় ইয়াবা সিন্ডিকেটের যোগাযোগ রয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মিশু বিশ্বাস বলেন, ‘তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’
গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুুকযুদ্ধে নিহত হন। আলোচিত এই ঘটনার পর বরগুনার স্থানীয় রাজনীতি, মাদক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইয়াবা কারবার ব্যাপক আলোচনায় আসে। নয়ন বন্ডসহ তার সহযোগীদের মাদক সেবনের তথ্য উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে।