তিন সন্তান রেখে প্রবাসীর টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে কথিত প্রেমিকসহ লাপাত্তা স্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মালয়েশিয়া প্রবাসী এক লোকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামীকে গোপনে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর কথিত প্রেমিকের সঙ্গে ওই নারী বাড়ি থেকে চলে যান। এ সময় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো প্রায় ২০ লাখ টাকা ও ১১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওই নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আড়াইহাজার পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকার রুমা আক্তার (৩২) ও একই এলাকার কবির হোসেন (৪০)।

এ ঘটনায় মামলা করেছেন রুমা আক্তারের স্বামী মনির হোসেনের ভাগনে মো. রিফাত মিয়া (২৪)। তিনি আড়াইহাজার পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রুমা আক্তারের সঙ্গে মালয়েশিয়াপ্রবাসী মনির হোসেনের প্রায় ২৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় চার বছর আগে মনির হোসেন আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর তিনি তার উপার্জনের টাকা নিয়মিত স্ত্রী রুমা আক্তারের কাছে পাঠাতেন।

বাদী মো. রিফাত মিয়া এজাহারে অভিযোগ করেন, প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে রুমা আক্তার প্রতিবেশী কবির হোসেনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গত ২ জানুয়ারি তিনি গোপনে মনির হোসেনকে তালাক দেন। তবে সেই তথ্য স্বামীকে না জানিয়ে তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং জমি কেনার কথা বলে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছরে মনির হোসেন রুমা আক্তারের কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার পাঠান। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ টাকা।

বাদীর অভিযোগ, গত ৭ আগস্ট রুমা আক্তার ও কবির হোসেন ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে চলে যান। চার দিন পর ১১ আগস্ট সকালে তারা কবির হোসেনের বাড়িতে ফিরে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বিয়ে করেছেন বলে জানান। একই সময় রুমা আক্তার তার প্রবাসী স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথাও জানান।

পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা রাজি হননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় মামলা বা মীমাংসার চেষ্টা করলে বাদী ও রুমার সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। এরপর রিফাত মিয়া বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন  জানায়, মামলার পর রুমা আক্তার ও কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।