আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, নেতিবাচক আন্দোলনের কাদায় আটকে গেছে বিএনপির রাজনীতি। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৭ আগস্ট ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে’ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে তিনি আরো বলেন, ‘শিল্পী জয়নুলের আঁকা সেই বিখ্যাত কাদায় আটকেপড়া গরুর গাড়ির মতো বিএনপি আটকে আছে রাজনীতির কাদায়। এই কাদা থেকে বের হতে হলে তাদের রাজনীতির সংস্কৃতি পালটাতে হবে। এ জন্য নেতিবাচক হত্যা-খুন, সন্ত্রাসের রাজনীতি, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও লুটপাট- দুর্নীতির রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে আপনারাই (বিএনপি) নেতিবাচক-ধ্বংসাত্মক, হত্যা-খুন, সন্ত্রাসের রাজনীতি, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি, লুটপাট ও দুর্নীতির রাজনীতি শুরু করেছিলেন। পাঁচবার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে দুর্নীতির কথা বলতে আপনাদের লজ্জা করে না? লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে ফেলছেন আপনারা।’ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যখন বলেন বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করতে পারেনি এটা তাদের দুর্ভাগ্য। তারা তো দেউলিয়া হয়ে গেছে। দেউলিয়া হয়ে গেছে তাদের নেতৃত্ব। দুর্ভাগ্যের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হয়নি এ ধরনের কথা, এ ধরনের বুলি, ফাকা কথা। এ ধরনের অবাস্তব বক্তব্য তারাই দিতে পারে যাদের রাজনীতি-আন্দোলন ভুলের চোরাবালিতে আটকে আছে।’ আওয়ামী লীগের তাদের (বিএনপি) শূন্য করে দিয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনি নির্বাচিত হয়েও নিজের আসন শূন্য করে দিয়েছেন। আপনি তো শূন্য হবেনই। যিনি নিজের আসন শূন্য করে দেন তিনি কত বড় শূন্য। তিনি ফাঁকা বেলুনে অবস্থান করছেন।’
ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এই সমাবেশের আয়োজন করে। দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক একে এম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
আগামী ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকমাস পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন, নির্বাচন আবার আসছে। জোর করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিততে চান না। আমরা জনগণকে খুশি করে জনগণের রায় মেনে নির্বাচিত হতে চাই। তাই জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, আপনারা কেউ যদি ভাবেন ক্ষমতায় আছি জিতেই যাব, তাহলে ভুল করবেন। আপনাদের জনগণের মন জয় করে, জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হতে হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী হতে হবে।