ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নীচে রামমন্দির থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রিপোর্টকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন দুই প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ। তারা বলেছেন, প্রমান পাওয়া না গেলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ইলাহাবাদ হাইকোর্টকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল যা অনুচিত। এদিকে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অযোধ্যায় রামমন্দির হবেই। খবর দ্য ওয়ার ও হাফপোস্টের
২০০৩ সালে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যেখানে বাবরি মসজিদ ছিল সেখানে অনুসন্ধান চালায়। এজন্য বিভাগের পক্ষ থেকে খনন করা হয় ওই স্থানে। পরে তারা ইলাহাবাদ হাইকোর্টকে জানায়, মসজিদের নীচে তিনটি রামমন্দিরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয় বলে হাফপোস্টকে এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন ওই অনুসন্ধান কাজে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ সুপ্রিয় ভার্মা এবং জয়া মেনন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তারা এই সাক্ষাত্কার দেন। সুপ্রিয় ভার্মা জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং মেনন শিব নাদার ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের প্রধান। তারা সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে খননকাজ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তারা খনন কাজে পাওয়া তথ্য নিয়ে ২০১০ সালে একটি পত্রিকায় লিখেছিলেন।
সুপ্রিয় ভার্মা জানান, তখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় ছিল। ফলে খননকাজে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরা চাপের মধ্যে ছিলেন। তাদের আসলে বাধ্য করা হয়েছিল মন্দিরের পক্ষে বলতে। অনুসন্ধানের নেতৃত্বে ছিলেন বি.আর. মানি যাকে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার মানিকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে বসায়। সুপ্রিয় ভার্মা অন্তত তিনটি উদাহরণ তুলে ধরেন। প্রথমত, পশ্চিম পাশের দেয়াল। দ্বিতীয়ত, ৫০টি পিলার এবং তৃতীয়ত, স্থাপত্য শৈলী। পশ্চিম পাশে দেয়াল দেখলেই বোঝা যায় যে এই পাশে মুখ করে নামাজ পড়া হয়েছে। এর কাঠামো মসজিদের মতো, মন্দিরের নয়। মূলত বাবরি মসজিদের নীচে কয়েকটি মসজিদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খন্ড খন্ড অংশ পেয়েছে যা দেখতে একজন মানুষ এবং একজন নারীর মতো। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কারণ পাথরের তৈরি মন্দির তো এরকম হওয়ার কথা নয়। পাথরের মন্দিরে তো পাথর পাওয়া যাবে। আর স্থাপত্য শৈলীর সঙ্গেও মন্দিরের কোনো মিল নেই। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা।