কবুল না বলে কাবিননামায় সই, বিয়ের বৈধতা নিয়ে ইসলামের ব্যাখ্যা

কাজী অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে হয়ে যায়, এমন ধারণা অনেকেই পোষণ করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কাবিননামায় সই করার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন বৈধ। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

ইসলামি আলেমদের মতে, শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না। কাবিননামা মূলত বিবাহের একটি নিবন্ধনপত্র বা প্রমাণপত্র। এটি বিয়ের মূল চুক্তি নয়।

শরিয়ত অনুযায়ী, বিয়ে সহিহ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে অথবা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে ইজাব (বিয়ের প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) করতে হবে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী—

১. দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে, অথবা

২. একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে।

সাক্ষীদের সামনে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হলেই বিয়ের আকদ বা চুক্তি সম্পন্ন হয়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে যদি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুল না হয়, তাহলে শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপনও বৈধ হবে না।

ধর্মীয় আলেমরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা জরুরি।

নতুন করে বিয়ে করতে যা করতে হবে 

বৈধভাবে সংসার শুরু করতে চাইলে—

১. মহর নির্ধারণ করতে হবে,

২. প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত রাখতে হবে,

৩. পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে মৌখিক ইজাব ও কবুল সম্পন্ন করতে হবে।

এভাবে নতুন আকদ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে বৈধ হয়ে যাবে। এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

কাবিননামা বিয়ের প্রমাণপত্র হলেও সেটি নিজে বিয়ে সম্পন্ন করে না। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুলই বিয়ের মূল ভিত্তি। তাই শুধু কাবিননামায় সই করলেই বিয়ে হয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদীর (৩/১০২), আল-বাহরুর রায়েক (৩/৮৩), মাজমাউল আনহুর (১/৪৬৮), রদ্দুল মুহতার (৩/১২), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৭০)।