আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্ভোগ

‘বৃষ্টি অইলেই ঝর ঝরাইয়া পানি পইড়া সব ভিজ্জা যায়’

“অন্যের নৌকায় মাছ ধরার কাম করতাম। বয়স হইছে, অহন আর আগের মতোন কাজ-কামে যাইতে পারি না। অনেক কষ্ট কইরা খাইয়া-পইরা বাঁইচা আছি। কিন্তু আমার বসতঘরের অবস্থা তো খুবই খারাপ। বৃষ্টি অইলেই ঝর ঝরাইয়া পানি পইড়া ঘরের সব ভিজ্জা যায়। পলিথিন দিয়া তো পুরোপুরি বৃষ্টি আটকান যায় না রে বাপ। রাইতে বৃষ্টি আইলে বালতি আর বল-বাটি লইয়া সারারাইত জাইগা থাহন লাগে। চউখের ঘুম তহন হারাম অইয়া যায়।”

কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭১ বছর বয়সী বাসিন্দা অঙ্গরাজ। জরাজীর্ণ ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় এভাবেই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্গাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের চালে মরিচা ধরে অনেক জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব ফুটো দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে অনেক বাসিন্দা পলিথিন ও কম্বল দিয়ে চাল ঢেকে রেখেছেন। তাতেও পুরোপুরি পানি ঠেকানো যাচ্ছে না।

ঘরের বেড়া, দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক। কোথাও কোথাও চাল, বেড়া, দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে ঘর ধসে পড়েছে। শৌচাগারগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য স্থাপন করা কয়েকটি টিউবওয়েলও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে ধনাগোদা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দরিদ্র, অসহায় ও ভূমিহীন ৭০ পরিবারের বসবাসের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। একসময় এখানে ৭০টি পরিবার বসবাস করলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২২টি পরিবার।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ৪৮টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে যারা এখানে বসবাস করছেন, তাঁরাও চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সাথি, কাব্য দাশ ও কালাচান তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ঘরের অবস্থা যেমন জরাজীর্ণ, তেমনি কর্মসংস্থানেরও সংকট রয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি বিভিন্ন সহায়তা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন।

বাসিন্দা কৃষ্ণদাস হালদার ও সুধাংশু বলেন, তারা দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। কিন্তু বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডিসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকেও অনেকে বঞ্চিত।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এখানে সত্যিই খারাপ অবস্থা। ঘরগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক আগেই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আর বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যাটি উপজেলা থেকেই সমাধান করা সম্ভব হবে।”