চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দেড় মাসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ২৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় ২৩টি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রান্সফরমার চুরি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তার খুলে নিয়ে খোলস ফেলে যাচ্ছে চোরেরা। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই থেকে গত রোববার পর্যন্ত ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ১৩টি এবং আগস্টে গতকাল পর্যন্ত ১০টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রতিটির জন্য থানায় একটি করে মামলা করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিন-চারটি ট্রান্সফরমার ও কিছু যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কোনো মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, দেড় মাসে ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছে। তাঁর দাবি, অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোক ছাড়া ট্রান্সফরমার চুরি করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন জড়িত বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তবে পুলিশের এ দাবির সঙ্গে একমত নন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন জড়িত—এ অভিযোগ সত্য নয়।
তিনি বলেন, গরমের সময় উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ মেগাওয়াট থাকলেও বরাদ্দ পাওয়া যায় মাত্র ৯ থেকে ১১ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে লোডশেডিং চলাকালে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে।
ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রতিটি চুরির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চুরি বন্ধে একাধিকবার সচেতনতা সভাও করা হয়েছে। এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার নাউরী, ফৈলাকান্দি, দুর্গাপুর, দাসের বাজার, দেওয়ানজিকান্দি, জীবগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার রাতে দেওয়ানজিকান্দি এলাকায় দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
এলাকার দুই বাসিন্দা জানান, দুটি ট্রান্সফরমার চুরির পর অর্ধশতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের মধ্যে রাতের অন্ধকারে ট্রান্সফরমার দুটি চুরি হয়।
ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে স্থানীয় কয়েকজনেরও সন্দেহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।