বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এতে পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে আলাদাভাবে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় বিল ফরম জমা দিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সমস্যা দূর করতেই পেনশন ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সুপারিশে পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খানকে সদস্য করা হয়। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেন কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায় এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।