শিকারির দৌরাত্ম্য ও কীটনাশকের প্রভাব

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সাদা বক

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আগের মতো আর চোখে পড়ে না সাদা বক। জলবায়ু পরিবর্তন, গাছপালা নিধন, আবাদি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার ও শিকারিদের অত্যাচারের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির এই পাখিটি।

অথচ এক সময় আকাশে সারি মেলে উড়াউড়ি, এক পায়ের ওপর ভর করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা ছিল পরিচিত দৃশ্য। এ নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরাও লিখেছেন বিস্তর। কবি ফররুখ আহমদ লিখেছেন, 'বকের সারি কোথা রে/লুকিয়ে গেল বাঁশবনে' । সেই সাদা বক এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখন আর খাবারের সন্ধানে বিল-নদী ও জলাশয়ে আসে না সাদা বক।

সম্প্রতি চলনবিলে দেখা মেলে একঝাঁক দেশীয় কানি ও সাদা বকের। বনভূমি উজাড় আর কিছু অসাধু পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যেতে বসেছে এই বক। নান্দনিক পাখি বকের কলরব এখন শুধুই স্মৃতি। দেশে পাঁচ প্রজাতির সাদা বক রয়েছে। এরা আকারে ৪৫ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে । পা ও লম্বা ঠোঁট ছাড়া এদের সারা দেহ সাদা পালকে আবৃত।

স্থানীয়রা জানান, একসময় সিরাজগঞ্জের তাড়াশের চলন বিল, কামারখন্দের জবোখালিসহ বিভিন্ন বিলে প্রচুর বকের আনাগোনা ছিল। সন্ধ্যা হলেই পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। তবে এখন সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।

ধল্বেশর গ্রামের আব্দুল বারেক তালুকদার ও গোপালপুর গ্রামের ডা. অসীম মণ্ডল বলেন, 'কয়েক বছর আগেও জবোখালি ও গোপলপুর বিলে অসংখ্য সাদা বক দেখা যেত । আশপাশের গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েসহ বড়রাও এই বক দেখার জন্য নিত্যদিনই ভিড় জমাত বিলের আশপাশে। এখন বিলে আর আগের মতো বক আসে না।'

সাবেক কামারখন্দ চৌবাড়ি ডিগ্রি কলেজের প্রফেসর রেজাউল করিম রাজা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন চৌধুরী জানান, আগে জবখালি, কর্ণসূতি, কৃষ্ণদিয়ার বিলে অসংখ্য বক দেখা যেত। এরা দল বেধে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু শিকারসহ নানা কারণে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, মিঠাপানির জলাশয়ে এদের দেখা যায়। সাধারণত এরা মাছ, পোকামাকড়, শামুক, ঝিনুক ও ব্যাঙ খেয়ে বেঁচে থাকে। নদী, খালবিল, হাওর, পুকুর, ডোবায় এদের দেখা যায়। দেশে সাদা বকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। শস্যখেতে কীটনাশক ব্যবহার ও বিল ভরাট এবং পানি না থাকার কারণে বক আজ বিলুপ্তির পথে।