রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে কাচালং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় বিএনপির ৫ জন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৮ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট বাঘাইছড়ি থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক। বুধবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন মজুমদার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে কাচালং নদী তীরবর্তী ৫টি স্তূপে রাখা ২৪ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু এবং বালু উত্তোলনের ৩টি মেশিন জব্দ করে। অভিযানকালে ১ নম্বর আসামি ওমর আলী ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। এর আগেও একই অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
এতে আরও বলা হয়, ওমর আলী ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ (২০১০ সালে সংশোধিত)-এর ১২ ধারা লঙ্ঘন করেছেন, যার ফলে তিনি উক্ত আইনের ১৫(১) ধারার ক্রমিক ১২ অনুযায়ী শাস্তির যোগ্য।
ইতোপূর্বে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জেলা বিএনপি ওমর আলীর পদ স্থগিত করেছিল। এর আগে, গত ১১ জুলাই বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুপ্তর্ষি সাহা ওমর আলীর বিরুদ্ধে বাঘাইছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। ওই জিডিতে ওমর আলীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর অন্যায্য চাপ প্রয়োগ এবং পিআইও কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ওমর আলী বলেন, আমি ১০ আগস্ট থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। বালি উত্তোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সরঞ্জামও নেই। একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আমাকে এসব মামলায় ফাঁসাচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন জানান, বাঘাইছড়ি বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক।
বাঘাইছড়ি থানার (ওসি) নাসির উদ্দিন মজুমদার জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা এই মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সংস্থাটি নিজেই পরিচালনা করবে।